ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১



  বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ২৮-০৪-২০২১  


মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা: ১

সচেতনতাই গ্রাহকের সুরক্ষা


  রবিউল ইসলাম সোহেল



রবিউল ইসলাম সোহেল:

ডিজিটাল ক্যাশ মিডিয়াম হিসেবে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন এখন মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে। কিন্তু যতই এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, ততই এর গ্রাহকগণ বিভিন্ন ধরণের প্রতারণার সম্মুখীন হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংক টাকা পাওয়ার দ্রুত অন্যতম একটি মাধ্যম, শুধু কি তাই প্রবাসীরাও এই সেবা গ্রহণ করছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এই মাধ্যমটির ব্যবহার প্রতিনিয়ত প্রতারণার হার বাড়ছে। এতে নতুন করে যোগ হয়েছে অ্যাপ্সের মাধ্যমে প্রতারণা। কিন্তু বিকাশে প্রতারণার ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়, তারপরও কিছু শ্রেণি পেশার মানুষ অসচেতনতা বা লোভে পড়ে প্রতিনিয়ত এসব প্রতারণার ফাঁদে পা রাখছেন। এসব ঘটনায় প্রতারিত হয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। আবার অনেকেই অপমান সহ্য করতে না পেরে বা পরিবার পরিজনের নিকট টাকার হিসাব দেওয়ার ভয়ে, ঘৃণায় অপমানে করছে আত্মহত্যা। অবশ্য এত হতাশার মধ্যেও কিছু আশার বাণী আছে। বাংলাদেশের কিছু পুলিশ সদস্য এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই প্রতারণা ঠেকাতে কি উপায় বের করা যায় সে বিষয়ে। প্রতারিতদের টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারা নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের মতে প্রথমেই হিসাবধারীকে সচেতন হতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের আইসিটি বিভাগে এমনই একজন নিবেদিত সদস্য হাফিুজর রহমান। যিনি বর্তমানে উপ-পরিদর্শক পদে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ইন-চার্জ আইসিটি অ্যান্ড মিডিয়া হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন অনেকদিন। তারকাছে মানচিত্র’র পক্ষ থেকে একটা সাক্ষাৎকার চাইলে তিনি সানন্দে তুলে ধরলেন এমনই একটি কাহিনি যা পাঠকদের কাছে হুবহু তুলে ধরা হলো। আশা করি এই কাহিনি পাঠ করার পর মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর সচেতন হতে সহায়তা করবে। আমরা পর্যায়ক্রমে হাফিজুর রহমানের এধরনের সাফল্যের কাহিনি নিয়মিত প্রকাশ করবো। আজকে প্রকাশিত হলো প্রথম কিস্তি। তাই যারা ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়িয়ে যেতে চান তাদের জন্য আজকের এই ফিচার।

হাফিজুর রহমান, এসআই, ইনচার্জ আইটি অ্যান্ড মিডিয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ

হাফিজুর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পেইজে একটি নিউজ আপলোড করা হয় এই মর্মে যে প্রতারণার মাধ্যমে নেয়া বিকাশের টাকা ফেরত এনে প্রকৃত গ্রাহককে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এই নিউজটি সেদিন একইসাথে ফেইসবুকেও পোস্ট দেয়া হয়। পোস্টটি দেখে ফতুল্লার একটি ছেলে মন্তব্য করে এবং একটি ফোন নাম্বার দিয়ে তার টাকাটা ফেরত আনার জন্য মিনতি করে। তৎক্ষণাৎ ছেলেটিকে ফোন করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করি। ছেলেটি তার জবানিতে যা বলে তা হলো: ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের দোকানে সে খন্ডকালীন একটা কাজ নিয়েছে। ছেলেটি আইএ পড়ে। ওর বাবা দিনমজুর। অভাবের সংসার। গত বছর নভেম্বরের দিকের ঘটনা। এর আগে হওয়া লকডাউনে ছেলেটির বাবা বেকার হয়ে পড়ে। তবু কষ্ট করে ছেলেকে পড়াতে চায়। বাবা চায়নি যে ছেলে এই কাজ করুক। দোকানের পাশের এক বাড়িতে এক মহিলার স্বামী বিদেশে থাকেন। তিনি বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠান। মহিলা বিকাশ বা মোবাইল সম্পর্কে খুব অবগত নন। তিনি পিন নাম্বারটা এনে এই ছেলেকে দিলে সে টাকাটা ক্যাশআউট করে দেয়। অথবা কোথাও টাকা পাঠাতে নাম্বার দিলে ছেলেটি সেই নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে দেয়। যেদিন এই ঘটনা ঘটে সেদিন যে মোবাইলটা মহিলা নিয়ে এসেছিলেন সেটার ডিসপ্লের কাচটা ভাঙা ছিলো। ফলে নাম্বার পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছিলো না। মহিলা একটি নাম্বার দিয়ে ২৫০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা পাঠাতে বলেন। ছেলেটি ভুলক্রমে শেষের ডিজিট ৬ এর পরিবর্তে ৭ দিয়ে টাকাটা পাঠিয়ে দেয়। ফলে টাকাটা মহিলার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় না গিয়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। তখন ছেলেটি সেই নাম্বারে ফোন করে মিনতি করে টাকাটা ফেরত দিতে বলে। কিন্তু সেই লোক টাকাটা আর ফেরত দেয় না। পরে জানা যায় ঐ লোক টাকাটাতো ফেরত দেয়ইনি; উল্টো সে টাকাটা তাৎক্ষণিকভাবে অন্য একটি নাম্বারে পাঠিয়ে দেয়। মজার বিষয় হলো যেই নাম্বারে ঐ লোক টাকাটা পাঠায় সেখান থেকেও টাকাটা তৃতীয় এক নাম্বারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপরে প্রথমে যার কাছে টাকাটা গেছে সে মোবাইলটাও বন্ধ করে দিয়েছে।

এরমধ্যে ঐ মহিলা প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে ছেলেটির কাছ থেকে ঐ ২৫ হাজার টাকা আদায় করে নিয়েছে। টাকা শোধ করার কাহিনিটিও বড় করুণ। ওর বাবা যাতে না জানে সেজন্য গোপনে ছেলেটি ওর মোবাইল, শখের একটি কম্পিউটার আর ধারদেনা করে মহিলার টাকাটা পরিশোধ করে। মহিলাটি ছেলেটিকে একচুলও ছাড় দেয়নি। ছেলেটি ভয়ে বাড়িও যায়নি। রাস্তায় বসে বসে কাঁদছিলো। পরে ওর এক বন্ধুর মোবাইল থেকে আমাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। আমি ছেলেটিকে পরামর্শ দিলাম থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে যেই নাম্বার থেকে টাকা গেছে সেই নাম্বার দিয়ে। ছেলেটি বললো ও জিডি করেছে ওর নামে। তখন বললাম তোমার নামে করলে হবে না। তুমি ঐ মহিলাকে দিয়ে একটা জিডি করাও। তখন ছেলেটি জানায় ঐ মহিলা কিছুতেই জিডি করবে না। বা এ বিষয়ে কোনো সহায়তাও করবে না। কারণ সে একটু দজ্জাল টাইপের। তখন ছেলেটিকে আমি আশ্বাস দিয়ে বললাম, তুমি চিন্তা করো না-দেখি আমরা কি করতে পারি।

এরমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে আমি বিকাশ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলি। তারা অনুসন্ধান করে আমাকে বলে যে, টাকাটা তৃতীয় একটা নাম্বারে পাঠানো হয়েছে এবং এখনও সেটা নগদায়ন বা ক্যাশআউট করা হয়নি। বিকাশ কর্তৃপক্ষ তখন আমাকে বলে যে সরকারি মেইল থেকে তাদেরকে একটা অনুরোধ পাঠাতে। তাহলে তারা ঐ নাম্বারটি লক করে দিবে এবং এই টাকা আর তোলা যাবে না। আমি তৎক্ষণাত মেইল করি এবং বিকাশ কর্তৃপক্ষ সেই নাম্বারটি লক করে দেয়।

বিকাশ থেকে টাকা পাওয়ার পরবর্তী কার্যক্রম হলো যে নাম্বার থেকে টাকা গেছে সে নাম্বারধারীকে একটি জিডি করতে হবে। ছেলেটি অনেক অনুনয় করার পরেও মহিলা কিছুতেই থানায় যাবেন না। ইতোমধ্যে ২দিন পার হয়ে গেছে। ছেলেটি ভয়ে বাড়ি যায় না। আমি বললাম যে বাড়ি গিয়ে ওর বাবাকে আমার কথা বলে ফোনে কথা বলিয়ে দাও। আমি সব বলবো। ছেলেটি বাবাকে ভীষণ ভয় পায়। পরে বাড়ি গিয়ে ওর মাকে সব খুলে বলে এবং ঐ মহিলার কাছে যায়। কিন্তু সে কিছুতেই থানায় যাবেনা। পরে ছেলেটির কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে আমি এলাকার একজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে আমার পরিচয় দিয়ে ফোন করি। তিনি বলার পরে ঐ মহিলা থানায় যায় এবং জিডিতে স্বাক্ষর করে। আমি জিডির কপি বিকাশ কর্তৃপক্ষকে পাঠাই।

এরপরে বিকাশ কর্তৃপক্ষের কিছু দাফতরিক কার্যক্রম আছে। যেমন তারা এই জিডির কপি এবং অনুরোধ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়। লকডাউন এবং নানা কারণে প্রায় ১ মাস চলে যায়। এরপর বিকাশ কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায় যে এখন টাকাটা মূল হিসাবধারীর নাম্বারে ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে একটি শর্ত আছে, সেটা হলো হিসাবধারীকে দেড়শ টাকার একটি স্ট্যাম্পে এই মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে যে কোনো কারণে যদি এই টাকাটার বিষয়ে আদালতে মামলা হয় তাহলে হিসাবধারী এই টাকাটা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য সকল খরচ বিকাশ কর্তৃপক্ষই বহন করবে। কিন্তু ঢাকার বিকাশ অফিসে এসে হিসাবধারীকে স্ট্যাম্পে সই করতে হবে। এ কথা বলার পরে ছেলেটি হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলো। কারণ সে জানে ঐ মহিলা কিছুতেই ঢাকা অফিসে যাবে না। পরে আমি নিজেও ঐ মহিলার সাথে কথা বলে অনুরোধ করলাম। তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না। তবে একটা শর্ত দিলেন যে যদি স্ট্যাম্প নারায়ণগঞ্জ এসপি অফিস অথবা বিকাশ অফিসে আসে তাহলে তিনি সেখানে গিয়ে সই করবেন। পরে আমি বিকাশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলে তারা বিকাশের পঞ্চবটি অফিসে প্রায় সপ্তাহখানেক পরে স্ট্যাম্পটি কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠায়। এবং ঐ মহিলা যথারীতি সেখানে গিয়ে স্ট্যাম্পে সই করেন। এরপরে টাকাটা বিকাশ কর্তৃপক্ষ ঐ মহিলার হিসাবে পাঠিয়ে দেয়। টাকাটা যেদিন আসে সেদিন ছেলেটির কান্না দেখে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। কারণ ও বিশ্বাসই করতে পারছিলো না এভাবে টাকাটা ফেরত পাওয়া সম্ভব।

বিষয়টি বলার কারণ হলো যে এভাবে কেউ প্রতারণার মধ্যে পড়লে আমাদের যদি তাৎক্ষণিকভাবে জানায় তাহলে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে অন্তত টাকাটা ফেরত আনার কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারি। হাফিজুর রহমান আরো বলেন, উপরে যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হলো সবক্ষেত্রে একই পদ্ধতিতে এটা করতে হবে। তবে আমাদের দ্রুত জানাতে হবে। আমি অন্তত আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে পারি। হাফিজুর রহমান আরো বলেন যে, বিকাশ এবং নগদের মোবাইল ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষেরই শুধু পুলিশকে সহায়তা করার জন্য একটি হটলাইন আছে। যেটা অনেক পুলিশই জানে না। তবে শর্ত হলো পুলিশের জন্য যে নাম্বার আছে শুধু সেই নাম্বার থেকে ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময়ে ঐ হটলাইনে ফোন করলে তারা সাড়া দিবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে বাধ্য। তবে রকেট কর্তৃপক্ষের এ ধরণের কোনো আলাদা হটলাইন নেই। তাদের প্রচলিত হটলাইনে শুধু অফিস চলাকালীন এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া সরকারি ওয়েব মেইল থেকে বার্তা পাঠালেও তারা সহায়তা করতে বাধ্য।

হাফিজুর রহমানের বয়ানে এই কাহিনি থেকে আমরা দেখতে পাই নানা কারণেই আমরা প্রতারণার শিকার হতে পারি। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের নিজেদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

 বিকাশ থেকে সচরাচর যে প্রতারণাগুলো করা হয় সেগুলো হলোঃ

‘আপনি লটারি জিতে গেছেন, পাসওয়ার্ড দরকার’

বিকাশের একটি কমন প্রতারণার ধরণ হচ্ছে আপনি লটারি জিতেছেন বা কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু সেই টাকা একাউন্টে ঢোকানোর জন্য আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড লাগবে। সাধারণ মস্তিস্কে চিন্তা করলে অবশ্যই এটি প্রতারণা বলে ধরা যায়। কিন্তু, যারা লটারি বা পুরস্কার শিউর করতে চান তাদের জন্য বলছি, কোন বিকাশ একাউন্টে টাকা ঢুকাতে বিকাশ একাউন্টের নাম্বার ছাড়া আর কিছু লাগে না। যদি আপনি বিকাশে টাকা ঢুকিয়ে থাকেন তাহলে দেখেই থাকবেন শুধু নাম্বার দিলেই দোকানদার বা ব্যক্তি টাকা পাঠিয়ে দিতে পারে। বরং, পাসওয়ার্ড লাগে একাউন্ট এক্সেস করতে বা টাকা উঠাতে। আপনি যদি পাসওয়ার্ড দিয়ে দেন তাহলে খুব সহজেই একাউন্ট এক্সেস করে প্রতারনা চক্র একাউন্ট খালি করে তা ডিলিট করে দিতে পারে। এমতাবস্থায় বিকাশ কর্তৃপক্ষ আপনাকে কোন সাহায্য করতে পারবে না।

 ‘আপনার একাউন্টে ভুল করে টাকা চলে গেছে, টাকা ফেরত পাঠিয়ে দিন’

অনেক সময় হিসাবধারীর কাছে কল বা এসএমএস আসে যে আপনার বিকাশ একাউন্টে টাকা চলে গিয়েছে। সেই টাকাটা ফেরত পাঠানো দরকার। অনেকেই এসএমএস দেখেই টাকা পাঠিয়ে দেন। যার ফলে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এসএমএস যে আসল নাকি নকল সেটি কিভাবে যাচাই করবেন?

এসএমএসে গিয়ে দেখবেন আপনার একাউন্টে টাকা ঢোকার এসএমএসটি কোন নাম্বার থেকে এসেছে। যদি কোন পার্সোনাল নাম্বার যেমন ০১৭৬৪xxxx থেকে এসে থাকে তাহলে সেটি হচ্ছে সম্পূর্ণ ভুয়া এবং মিথ্যা। কারণ বিকাশের সকল ম্যাসেজ ‘Bkash‘ থেকে এসে থাকে যার আলাদা কোন নাম্বার নেই। সুতরাং, যদি বিকাশ লেনদেন সম্পর্কিত ম্যাসেজ ‘Bkash‘ থেকে না এসে থাকে তাহলে ধরে নেবেন আপনার সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

অপরদিকে যদি সত্যিই ‘Bkash‘ থেকে পাঠানো ম্যাসেজে দেখেন আপনার একাউন্টে টাকা ঢুকেছে তাহলে যে আপনাকে ফোন বা ম্যাসেজ দিয়েছে বা দেবে তার কাছ থেকে অরিজিনাল বিকাশ নাম্বারটি নিয়ে সেন্ড মানি করে খুব সহজেই ফেরত দিয়ে দিতে পারবেন। এর জন্যও আপনার একাউন্টের কোন এক্সেস বা পাসওয়ার্ড কাউকে দেয়া লাগবে না।

যাই হোক, এমনটি হলে আপনার প্রথম কাজ হবে গোপনে পুলিশের সাহায্য নিয়ে বিকাশ সেন্টার থেকে সেই একাউন্টটি অবস্থান নিশ্চিত করা। বিকাশ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিটি একাউন্টের মালিকের নাম, ন্যাশনাল আইডি নাম্বার ঠিকানা থাকে। আর এজেন্ট একাউন্ট হলে তার দোকান বা প্রতিষ্ঠানের নামও তাদের কাছে পাওয়া যাবে। সুতরাং, এমনটি হলে আইনী পদক্ষেপ নিয়ে বিকাশ নাম্বারের মালিককে ট্রেস খুব সহজেই করা যাবে। এটি এমন জটিল কোন বিষয় নয় যা মানুষ মনে করে থাকে। এজেন্টকে কখনো আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড দেবেন না

এমন ডিজিটাল প্রতারণা শুধু বিকাশেই নয় রকেট, নগদসহ সকলপ্রকার ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যমেই ঘটছে। শুধুমাত্র বিকাশের উদাহরণ দেয়ার কারণ হচ্ছে কারণ এ ধরণের প্রতারণা ও জালিয়াতি বেশির ভাগ বিকাশের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। কারণ, বাংলাদেশে অন্যান্য সার্ভিসের চেয়ে বিকাশ ব্যবহারকারির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে, অন্যান্য সার্ভিসের ক্ষেত্রেও একই উপায়ে প্রতারণা ঠেকানো যাবে, কিন্তু দিনশেষে আমাদের নিজেদেরই সতর্কতা বাড়াতে হবে।


 নিউজটি পড়া হয়েছে ৫৪৯ বার  


 এই ধারাবাহিকের সকল পর্ব  

•   মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা: ১






 

জাতীয়

করোনা নিয়ে ভ্যাকসিন ট্রাকারের আশাবাদ ও ডেঙ্গি মহামারীর শঙ্কা

পরীমণিদের ‘পরী’ বানায় কারা?

১৫ আগস্ট: ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মানবীয় উদ্যোগ

পুলিস ও লায়ন্স ক্লাব-এর যৌথ উদ্যোগে ডাবলমুরিং-এ বিনামূল্যে ইফতার ও সেহেরি বিতরণ

অ্যান্টিবডিকে পাত্তা দিচ্ছে না করোনাভাইরাস!

চালু হলো পশু ক্রয়-বিক্রয়বিষয়ক মোবাইল অ্যাপ 'পশুর হাট'

বিবর্তিত হতে হতে করোনা আরও ভয়ঙ্কর‍! গবেষকদের দাবি

তিনটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ‘ককটেল’: চিকিৎসায় অব্যর্থ!

রেমডেসিভির: করোনায় আশা জাগাচ্ছে!

জাতীয় বিভাগের আরো খবর





সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি:
আবদুল্লাহ আল হারুন
প্রধান সম্পাদক:
আসিফ হাসান (নূর নবী)

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো. জিয়াউল হক
বিশেষ সংবাদদাতা:
র‌বিউল ইসলাম সো‌হেল

আমাদের মানচিত্র

ঠিকানা: দেওয়ান কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৬০/ই/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
কক্ষ নং ১৪/সি, নোয়াখালি টাওয়ার (১৪ তলা), ৫৫-বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০১৯১৪-৭৩৫৮৫৮, ০১৯১৪-৮৭৫৬৪০
ইমেইল: editor@amadermanchitra.com, amadermanchitrabd@gmail.com

Location Map
Copyright © 2012-2021
All rights reserved

design & developed by
corporate work