ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১



  বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ১৮-০৮-২০২১  


পরীমণিদের ‘পরী’ বানায় কারা?


  সোনিয়া বিনতে আজিজ



সোনিয়া বিনতে আজিজ: শোবিজ জগতের পরিচিত মুখদের গোমর ফাঁস, তাদেরকে আটক নিয়ে সকলের মনে একধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তোলপাড় শুরু হয়ে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনসহ ঊর্ধতন মহলে। কারণ পুলিশেরই এক কর্মকর্তা পরীমণির সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাদের একান্ত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়ে এখন নেট দুনিয়ায় ঘুরছে।  গতমাসে পর্নগ্রাফি মামলায় ভারতের মুম্বাইয়ে শিল্পা শেঠির জামাই রাজ কুন্দ্রার গ্রেফতারের ধরণ নিয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মহলও সাম্প্রতিক ঘটনায় একধরনের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন। পার্থক্যটা হলো রাজকুন্দ্রা স্পর্শকাতর ছবি দিয়ে কাউকে বø্যাকমেইল করেননি, শুধু পর্ন ছবি তৈরি করে বিশেষ আ্যপের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। আর বাংলাদেশের আটককৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা  তাদের কাছে আগত ব্যক্তিদের স্পর্শকাতর ছবি তুলে বø্যাকমেইল করতেন।

গত ৪ আগস্ট বুধবার ঢালিউডের বহুল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র‌্যাব (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) এর একটি দল। পরীমনিকে আটকের পর র‌্যাব সদস্যরা জানান, অভিযানে তার বাসা থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বলা হচ্ছিল, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসায় অভিযান চলছে। কি সেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় ব্যাপক জল্পনা। মূলধারার গণমাধ্যম বিভিন্ন সূত্রে জানিয়েছে, পরীমনি ও তার পরিচিত কয়েক জনের বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি ও বø্যাকমেইলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরআগে গ্রেপ্তার হয়েছেন মডেল মৌ, পিয়াসা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ আরো কয়েকজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনে তাকে শাস্তিও ভোগ করতেই হবে। কিন্তু পরীমনিকে গ্রেফতার করার পরে কি হচ্ছে তা কি কেউ ভেবে দেখেছি। এ যেন বিচারের আগেই বিচার। মিডিয়াগুলো তাকে নিয়ে যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। পরীমণি কার কার সঙ্গে, কী কী করছেন-এসব নিয়ে। খুলে বলতে হবে ফিরিস্তি। তাঁর বাসায় মদের বার, সেখানে কারা যেত? কোন ব্যাংকের এমডি তাঁকে বিলাসবহুল হ্যারিয়ার জিপ দিল? দুবাইয়ের বুরজ খলিফায় তিনি কার সঙ্গে রাত কাটালেন, কারো সঙ্গে বিদেশ গেলে তিনি নাকি ১০টা শর্ত দিতেন। কোন রথী-মহারথী তাঁকে বিলাসব্যসনে ভাসালেন? সব জানা চাই, সব। আর এসব নিয়ে একটি দেশ, সমাজ, পরিবার আর লাখো কোটি মানুষকে মজার উদ্রেক করে দিয়েছে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকতা। আমরা একবারও ভাবিনা একটি মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা পরীমণি, মৌ, পিয়াসাদের ‘পরী’ বানিয়েছে কারা। তারা নিশ্চই এককভাবে এত উঁচুতে উঠতে পারেনি। তাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের অপরাধের অভিযোগ আনা হচ্ছে সেটা সংঘটন করা তাদের একার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। তাদেরকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, লালন করেছে তারা কোথায়? কেন তাদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে না। মিডিয়া

 

কেন তাদের খোঁজ নিচ্ছে না।

করোনার মহামারির সময়ে আমরা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল আর সংক্রমণের হার। স্বজন হারানোর বেদনায় যেখানে হাজার হাজার পরিবার শোকে মূহ্যমান সেখানে কী দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা পুরো জাতি হাঁ করে গিলছি পরীমণিকে! তাঁকে নিয়ে চর্চা করে দিন-রাত পার করে দিচ্ছি! আমাদের যেন এর চেয়ে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নেই! পরচর্চা, পরের ইচ্ছা, রুচি, ব্যক্তিগত জীবন যেন আমাদের মন আর মগজে সুড়সুড়ি দিচ্ছে! যারা তাঁকে নিয়ে খেলছে, তারা কুলীন বলে তাদের নিয়ে আগ্রহের চেয়ে একজন ব্যক্তি পরীমণি নিয়েই সবার ঘুম হারাম। আসলে আমাদের জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনের অগ্রাধিকার বোঝা দরকার সবার আগে। না হলে সবই হবে, তবে আমাদের আত্মপরিচয় খুঁজে পাব না!

সমাজের প্রতিটা স্তরে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার শিল্পী সমাজসহ সবাই। প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধের ভাঙনে সমাজের সর্বস্তরের বিশৃঙ্খলা দেশকে নিয়ে যাচ্ছে চরম হতাশার দিকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সমাজের আর দশজনের চেয়ে একজন শিল্পীর সামাজিক দায়িত্ব অনেক বেশি। তার কারণ, শিল্পী তার সৃষ্টকর্ম দিয়ে সাধারণকে প্রভাবান্বিত করার ক্ষমতা রাখেন। শিল্পীর দায়িত্ব সমাজকে প্রগতির পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করা। নৈতিকতার বিচ্যুতি বর্তমানে আমাদের সমাজের সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়। বিচ্যুতি নেই এমন স্থান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

আমাদের আসলে ফিরে তাকানোর সময় হয়েছে। মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে কাজ করতে হবে। বিশ্বায়নের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে। এর সুফল পেতে হলে চাই নৈতিকতাবোধসম্পন্ন প্রজন্ম। অন্যথায় আমাদের জীবন হয়ে উঠবে আরও সংকটময় ও অসহনীয়। বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে এখন থেকেই। দক্ষ মানবশক্তির সঙ্গে নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন একটি প্রজন্মই পারে বিকৃত মানসিকতা ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে।

আ. গা. চৌ’র আবেদন

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি আবেদন জানিয়েছেন প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। আবেদনে লন্ডন প্রবাসী প্রবীণ এই সাংবাদিক লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এটি তার একার আবেদন নয়। দেশে প্রশাসন, একটি বিত্তশালী গোষ্ঠী এবং মিডিয়া গোষ্ঠী মিলে ২৮ বছরের এক তরুণীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে সে সম্পর্কে সচেতন নাগরিক সমাজের আবেদন।

তিনি লিখেছেন, ‘পরীমণিকে গ্রেপ্তারের জন্য দু’চার জন র‌্যাব কিংবা পুলিশ সদস্য গেলেই হতো, সেখানে যে আয়োজন করা হয়েছিল তাতে মনে হয়েছিল কোনো ভয়ংকর ডাকাতকে গ্রেপ্তারের জন্য এই যুদ্ধযাত্রা। গ্রেপ্তারের পর থেকেই পরীমণির বিরুদ্ধে একটার পর একটা স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। এটা বোঝাই যায়, কোনো একটি মহল থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এগুলো করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিচারের আগেই বিচার। চয়নিকা চৌধুরীর মতো একজন বিখ্যাত নাট্যকারকে অহেতুক রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে তার চরিত্রে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো ক্ষমতার বাড়াবাড়ি। এগুলো চলতে দিলে দেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে।’

আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘বোট ক্লাবের ঘটনার পরে আসামিরা যে সহজেই জামিন পেল তার রহস্য কী? এই শক্তিশালী মহলটি প্রশাসনের একাংশকে বশ করে যে এই ঘটনাগুলো সাজিয়েছে তা বুঝতে কি কষ্ট হওয়ার কথা? তারপর মিডিয়ায় প্রচার। এই প্রচারগুলো যে সত্য নয় তা সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বিবৃতিতে জানা গেছে। সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে পরীমণির বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে আরেফিন সাহেবের বিবৃতিতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’

পরীমণির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে প্রচারণার কথা উল্লেখ করে এই প্রথিতযশা সাংবাদিক লিখেছেন, ‘পরীমণি নায়িকা। তার নানাবিধ পুরুষের সঙ্গেই সম্পর্ক থাকতে পারে। সেটা কি অপরাধ? সবিনয় জিজ্ঞাসা, আদালতে বিচার হওয়ার আগে দেশের চলচ্চিত্র জগতের সম্ভাবনাময় তরুণীর জীবন যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলো তার দায়িত্ব কে নেবে? আদালতের বিচারে পরীমণি যদি দোষী সাব্যস্ত হয় এবং শাস্তি পায় তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু একজন তরুণীকে যেভাবে আটক করে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা শুধু নারী সমাজের অপমান নয়, মানবতার অপমান। আমাদের নাগরিক স্বাধীনতার ওপর একটি ভয়ংকর থাবা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলেই নারীদের ক্ষমতায়ন শুরু হয়েছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সবিনয় আবেদন, পরীমনির ব্যাপারে তিনি হস্তক্ষেপ করুন। তাকে বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে বলি না। তাকে হায়েনা গোষ্ঠীর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। পরীমণির সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা যে দেশের আর একজন নাগরিকের ওপর করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কী?’ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের সচেতন বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কাছে আবেদন জানাই, তারা পরীমণির ওপর এই হেনস্থার প্রতিবাদ করুন। দয়া করে চুপ থাকবেন না। পরীমনির ওপর অত্যাচারের নিন্দা জানান। মিডিয়ার কাছে অনুরোধ, তারা যেন অত্যাচারিতের পক্ষে দাঁড়ান। অত্যাচারী গোষ্ঠীর পক্ষে না যান।’

 

রাজের বাসায় থাকার শর্ত ও পরীমণির ক্যারিয়ার

বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি সংবাদে জানা যায়, পরীমনিকে তিন বছর থাকতে বাধ্য করা হয় রাজের বাসায়। পরীমনি নায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের হাত ধরে। তবে এ জন্য পরীমনিকে শর্তের জালে জিম্মি করেন রাজ। শর্ত অনুযায়ী রাজের বনানীর ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন পরীমনি। একইসঙ্গে তিন বছর ওই বাড়িতে রাজের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হন নায়িকা পরীমনি। এক পর্যায়ে বাড়িতে ওঠেন রাজের স্ত্রী ইশরাত জাহান জুই। নিজের স্ত্রী এবং পরীমনিকে নিয়ে একই বাসায় থাকতে শুরু করেন রাজ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। শুধু রাজ নয়, চলার পথে পরীমনিকে মোকাবিলা করতে হয়েছে এ ধরনের নানা চ্যালেঞ্জ। অনেকেই সুযোগ মতো নিজেদের কাজে পরীমনিকে ব্যবহার করে আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের হয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বø্যাকমেইলের অভিযোগে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকার আশুলিয়ায় বোট ক্লাবে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্তাধীন মামলার তদারকি কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন সিথিলও প্রেমের সম্পর্কের নামে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা শুরু করেন পরীমনির সঙ্গে।

পরীমনির এক স্বজন মিডিয়াকে বলেন, পরীমনি হয়তো কোনো চক্রে মিশে অপরাধ করেছে। কিন্তু সবাই পরীমনির কাছ থেকে শুধু সুবিধা নিয়েছে। তাকে ব্যবহার করেছে। কারা পরীমনিকে আজকের জায়গায় নিয়ে আসার জন্য দায়ী তাদেরও সামনে আনা উচিত।

সূত্র জানায়, প্রযোজক রাজের নেতৃত্ব রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থে পরীমনিকে ব্যবহার করেছে। বিনিময়ে পরীমনিকে খ্যাতি ও অর্থের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এ রকম অন্তত দুই শতাধিক মডেল-নায়িকাকে নিজের কবজায় রেখেছেন রাজ। সুযোগ মতো তাদের কাজে লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করেন রাজ। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইশরাত জাহান জুই আমাদের সময়ের কাছে দাবি করেন, তিনি ওই ফ্ল্যাটে ওঠার পর পরীমনিকে দেখেননি।

নেপথ্য কাহিনি!

যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তাদের অধিকাংশের বাস রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে খ্যাত গুলশান-বনানী ও বারিধারায়। তাদের সখ্য যাদের সঙ্গে, তারাও সমাজের উঁচুস্তরের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। হেলেনা জাহাঙ্গীর, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিনেত্রী পরীমণি। এ ছাড়া বিতর্কিত মডেলদের সহযোগী হিসেবে শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কেন আকস্মিকভাবে এসব গ্রেপ্তার- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল নেপথ্য কাহিনি। সংবাদসূত্রগুলোর তথ্যমতে, মডেলদের কেউ কেউ পার্টির আড়ালে গোপন ক্যামেরায় সমাজের বিত্তশালীদের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও তুলে রাখতেন। এর পরই এই ছবি তাদের পরিবারের স্বজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে বিত্তশালীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ চক্রের সদস্যদের এজেন্ট রয়েছে। তারা সেখান থেকে সুন্দরী মেয়েদের নানা প্রলোভন দিয়ে ঢাকায় আনতেন। এরপর তাদের মাধ্যমে অভিজাত এলাকার পার্টি গার্ল হিসেবে ব্যবহার করতেন। অনেককে মডেল বানানো, নাটক-সিনেমায় কাজ করার টোপ দেওয়া হতো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানায়, একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সম্প্রতি মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের চক্করে পড়েন। তার অসতর্ক অবস্থার ছবিকে পুঁজি করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এদের চক্কর থেকে বের হতে ওই ব্যবসায়ী বিষয়টি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জানিয়ে আইনি প্রতিকার চান। এরপর বেরিয়ে আসে; শুধু ওই ব্যবসায়ী নন, এখন পর্যন্ত পিয়াসা ও মৌয়ের মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৭টি ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজন শিল্পপতি-ব্যবসায়ীর বখে যাওয়া সন্তানদের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি রয়েছে। তাই এসব গোপন ভিডিও অন্যদের হাতে চলে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। চক্রটির প্রতারণা থেকে ফেঁসে যাওয়া ব্যক্তিদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষার জন্য এ অভিযান।

ব্যবসায়ীর অভিযোগের সূত্র ধরে বিত্তশালীদের ফাঁসানোর বিষয় জানার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গভীরভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এসব অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে সবুজ সংকেত মেলার পর গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার তালিকায় আরও ৩৫ থেকে ৪০ জন রয়েছেন। মূলত অসতর্ক মুহূর্তের ছবি ব্যবহার করে ফাঁসানোর এ চক্রটিকে একটি বার্তা দিতে চান সংশ্নিষ্টরা।

উঠতি মডেলদের যারা ব্যবহার করতেন, পার্টি আয়োজনের জন্য তাদের বিভিন্ন ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতি রাতে সেখানে পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানে চড়া দামে বিত্তশালীদের কাছে বিদেশি মদও বিক্রি করে আয় করা হয় লাখ লাখ টাকা। আবার সরকারি-বেসরকারি কাজ বাগিয়ে নিতে কেউ কেউ উঠতি মডেল ও নায়িকাদের ব্যবহার করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে আরো জানান, অসতর্ক অবস্থায় তোলা ছবি ও ভিডিও পুঁজি করে অনেক বিতর্কিত মডেল ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাসোহারা নিতেন। কেউ কেউ দামি গাড়ি নিয়েছেন। অনেককে বিদেশ ভ্রমণের পুরো খরচও দেওয়া হয়। মূলত বিতর্কিত মডেলদের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে যাদের অসতর্ক মুহূর্তের ভিডিও রয়েছে, তা জব্দ করা হবে। আরও কয়েকজন মডেল গ্রেপ্তারের তালিকায় রয়েছেন।

 

‘নায়িকা পরীমণি ও আমি’

চিত্রনায়িকা পরীমণিকে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিনের একটি গাড়ি উপহার দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংবাদকে মিথ্যাচার বলে দাবি করছেন মাসরুর নিজেই।

পাশাপাশি পরীমণি ও পিয়াসাকে কখনো দেখেননি বলে দাবি করে রোববার (৮ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন তিনি। ঢাকা পোস্টের পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

আমেরিকায় বিএসইসি আয়োজিত বিনিয়োগ রোড শো-তে অংশ নিয়ে আমি এখন ঢাকার পথে। এর মধ্যেই শিকার হলাম আমার জীবনের প্রবলতম মিথ্যাচারের। ইত্তেফাক লিখে দিলো: ‘একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে পরীমণির অডিও রেকর্ডে একটি গাড়ি উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমণির গভীর সখ্যের বিষয়টি কথোপকথনে উঠে এসেছে।’

আমার বলার কোনো ভাষা নেই, কোনোকিছু বলারই কোনো ভাষা নেই। আমি আমার বাপের জীবনে, এই মর্ত্যের পৃথিবীতে, এই ধরাধামে পরীমণি নামের কাউকে দেখিনি। অতএব তার নম্বর আমার কাছে থাকার প্রশ্নই আসে না। এমনকি ‘বোট ক্লাব‘ ঘটনার আগে পর্যন্ত পরীমণি নামটিও শুনিনি। আমার মানুষকে জিজ্ঞাসা করতে হয়েছিল যে, কে এই পরীমণি?

আমার কাজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাংকিং আর তারপর সাহিত্য নিয়ে পড়ে থাকা। প্রতিদিন। একই। ঢাকার একজন মানুষও (হাই সোসাইটির একজনও) বলতে পারবেন না তারা কেউ আমাকে কোনোদিন কোনো ক্লাব বা পার্টিতে দেখেছেন (এখানে আমি ক্লাব বা পার্টিতে যাওয়ার নিন্দা করছি না, সেটা যারা যাবার তারা যেতেই পারেন; আমি শুধু বোঝাচ্ছি যে মানুষ হিসেবে আমার টাইপটা কী?)। এতটাই ঘর ও অফিস/অফিস ও ঘরমুখী এক মানুষ আমি।

অতএব বলছি, তাকে গাড়ি দেওয়ার কথাটা আমার কানে লাগছে মঙ্গল গ্রহের ভাষায় বলা কোনো কথার মতো। আমার নিজের একটিও গাড়ি নেই। একটা সামান্য মারুতি বা ধরেন একটা টয়োটা করোলা গাড়িও না। ব্যাংক আমাকে চলার জন্য গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে, তাতেই চড়ি। ব্যাংকের চাকরির শেষে নিশ্চয় কোনো ব্যাংক থেকে কার লোন নিয়ে একটা গাড়ি কিনে তাতে চড়ব।

কোনো অভিযোগের মধ্যে মিনিমাম মিনিমাম মিনিমাম এক সুতো সত্য থাকতে হয়। কিন্তু এ এক ভয়ংকর বিষয় যে, আমি যাকে চিনি না, জীবনে যার বা যাদের সঙ্গে হ্যালো বলা দূরে থাক, যাদের নামটা পর্যন্ত আমি প্রথম জানলাম এই কদিন আগে (পিয়াসা নামটা মাত্র দুদিন আগে), সেই নায়িকা বা মডেলকে আমি গাড়ি দিয়ে ফেললাম?  কোথায় যোগাযোগ হলো আমাদের? ফোন কল? তার নাম্বার কী? কল রেকর্ড আনা হোক। তাহলে ঘটনা কী? আমি সত্যি জানি না, ঘটনা কী। বুঝি যে, আমাকে নিয়ে (অর্থাৎ এক অর্থে সিটি ব্যাংক নিয়ে) একটা সস্তা ষড়যন্ত্র চলছে। ইত্তেফাক-এর খবরে ওরা দ্যাখেন সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যানের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারেনি, লিখেছে ‘ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত রুবেলের সঙ্গে পরীমনির গভীর সখ্যের বিষয়টি...।’শওকত রুবেল নামের মানুষটা কে? এই নামে তো কেউ নেই। সাংবাদিক ভাইয়েরা, কী লিখেছেন আপনারা এসব? মানুষ ও তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন আপনাদের কাছে এতই ফেলনা যে, নামটাও ঠিক জেনে লিখবেন না? প্রিয় ইত্তেফাক, আমার ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম আলাদা। সেটা শওকত রুবেল না। আমার অনুমান এই যে, ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেল আমাদের ব্যাংক চেয়ারম্যানের ছোট ভাই। একটা গোষ্ঠী তার হয়তো ক্ষতি চায়, এবং তারা তাদের সেই চাওয়ার সঙ্গে তাকে সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যান ভেবে নিয়ে ব্যাংক প্রধান হিসেবে আমাকেও নিষ্ঠুর ও বাছবিচারহীন এক সামাজিক নর্দমার মধ্যে ঠেলে দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করলেন না।

তারা বুঝলেন না যে, ‘আগস্ট আবছায়া’ (বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ওপরে চার বছরের গবেষণার শেষে বাংলায় লেখা অন্যতম সেরা উপন্যাসটা আমার লেখা), ‘আলথুসার‘ বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ নামের উপন্যাসের লেখক মাসরুর আরেফিন, বা বাংলায় ‘ফ্রানৎস কাফকা গল্পসমগ্র’ কিংবা ‘হোমারের ইলিয়াড’-এর এই অনুবাদকের সিম্পলি সিম্পলি সিম্পলি এক পয়সা দুর্নীতির টাকাও থাকতে পারে না, যা দিয়ে (ব্যাংক লোন না নিয়ে) তিনি নিজের জন্য একটা সাধারণ বা বিলাসী গাড়ি কিনতে পারেন। অন্যের জন্য কেনার কথা বাদই দিন।

এবার লেখকসত্তার জায়গা থেকে একটা কথা বলি। আইনি বিষয় ও সামাজিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলো বেশ তো গুলিয়ে যাচ্ছে! আমার কাউকে কোনো গাড়ি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমার কাউকে ধরুন ভালো লাগল (যার সম্ভাবনা বাস্তবে কম, কারণ আমার দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে এক সুন্দর সংসার আছে), তখন তাকে যদি আমি আমার সামর্থ্যরে মধ্যে দুই বক্স চকলেটও কিনে দিই, সেটা নিয়ে আইন ছাপিয়ে, সংবিধানের মৌলিক অধিকার ছাপিয়ে ‘সমাজের বিচার’ নামের যে-এক ড্রাগন আছে, সে এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হাউ হাউ করে উঠবে।

ব্যক্তি স্বাধীনতার সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্নকে টেনে টেনে এনে আইনের আরও ঊর্ধ্বেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দৈনন্দিনের বাছ-বিচারগুলোকে। এরকম সমাজে অনেকের লাভ, কারণ আমরা সাধারণ মানুষেরা তখন ইতিহাসের ল্যাবরেটরিতে কাঁউ-কাঁউ করে বেড়ানো ইঁদুর হয়ে থেকে যাই। আমাদেরকে সেই ইঁদুর হওয়ার বিরুদ্ধে লড়তে  হবে। ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতি মুহূর্তের একটা ‘অনগোয়িং ওয়ার্ক’। এই রাষ্ট্র আমাদের স্বাধীনতাগুলোর স্বাধীনতার যে কাজটুকু অন্যের জন্য ক্ষতিকর না-এভাবে কেড়ে না নিক। বাস্তবেই অনেক ক্ষতিকর কিছু ঘটছে অনেক দিকে, অনেক অবিচার ও আর্তনাদের ময়লা উড়ছে অনেক অনেক কোনায়। সেদিকে চোখ থাকুক আমাদের।

শেষ কথা একটাই, আমি আমার মানব জীবনে এই নায়িকা বা মডেলদেরকে দেখিনি। তাদের সঙ্গে না-দেখা জগতের ফোনের যে-হ্যালো, সেটাও কোনোদিন বলিনি। তারা কারা তাও আমি জানতাম না ‘বোট ক্লাব’ কান্ডের আগে। সবচাইতে বড় কথা তাদের নামটাও আমি শুনিনি।

এখন তাহলে এক ব্যক্তির ওপরে, এক সাধারণ মানুষের ওপরে, এক লেখক ও কবির ওপরে, এক ‘কেউ-না এমন এক মানুষের ওপরে’ অবিচারের মাত্রাটা বুঝুন। বাকি বিচার এই সমাজের, সমাজই যেহেতু আছে বিচারকের ভূমিকায়।‘

 

কোনো তালিকা হচ্ছে না, কারো সঙ্গে সম্পর্ক

থাকাতো বেআইনি নয়-ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, পরীমণি, পিয়াসা ও মৌয়ের বাসায় যাতায়াত ছিলো এমন কারো তালিকা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পরীমণি, পিয়াসা ও মৌয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে একটি গ্রæপ চাঁদাবাজি করছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে দুই-তিন জন ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা এসব চাঁদাবাজদের বিষয়ে তথ্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। চাঁদাবাজদের কল রেকর্ড করতে ভুক্তভোগীদের পরামর্শ দেন। এসব কল রেকর্ড পরে পুলিশের কাছে জমা দিতে বলেন। এই চাঁদাবাজদের বিষয়ে স্থানীয় থানা বা ডিএমপিকে তথ্য জানাতে অনুরোধ করে। কমিশনার আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজন ব্যবসায়ী এমন চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ডিএমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। লোকলজ্জার ভয়ে গুলশানের আতঙ্কিত একজন ব্যবসায়ী ডিএমপির কমিশনারের সহযোগিতা কামনা করেন। কারো সঙ্গে সম্পর্ক থাকাতো বেআইনি নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে মামলা না হয়।

 

পরীমণি ও পিয়াসার সঙ্গে ২১ প্রভাবশালীর সখ্য!

চিত্রনায়িকা পরীমনি ও মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাইবাছাই করছে সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ)। তাদের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ডও উদ্ধার হয়েছে। সিআইডি তাদের ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসআপ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোন থেকে প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এসব ভিডিও ফুটেজ ও অডিও রেকর্ড দিয়ে পরীমনি ও পিয়াসা প্রভাবশালীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন।

সিআইডির সূত্র জানায়, এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেছেন, ‘চিত্রনায়িকা পরীমনি, মডেল পিয়াসা ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর ইস্যুতে দায়ের হওয়া মামলাগুলো সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নাম এলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত সবার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সিআইডি। চিত্রনায়িকা পরীমনি, ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর, প্রযোজক রাজ, মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের সাতটি মামলা আমাদের (সিআইডি) কাছে এসেছে। আসামিদের আমরা হেফাজতে পেয়েছি। ইতোমধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আইনের মধ্যে থেকেই মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। সুষ্ঠুভাবে তদন্তকাজ সম্পন্ন হবে। যারা সত্যিকারভাবে দোষী, সিআইডি তাদের খুঁজে বের করবে।’


 নিউজটি পড়া হয়েছে ১৯৮ বার  






 

জাতীয়

করোনা নিয়ে ভ্যাকসিন ট্রাকারের আশাবাদ ও ডেঙ্গি মহামারীর শঙ্কা

১৫ আগস্ট: ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মানবীয় উদ্যোগ

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা: ১

পুলিস ও লায়ন্স ক্লাব-এর যৌথ উদ্যোগে ডাবলমুরিং-এ বিনামূল্যে ইফতার ও সেহেরি বিতরণ

অ্যান্টিবডিকে পাত্তা দিচ্ছে না করোনাভাইরাস!

চালু হলো পশু ক্রয়-বিক্রয়বিষয়ক মোবাইল অ্যাপ 'পশুর হাট'

বিবর্তিত হতে হতে করোনা আরও ভয়ঙ্কর‍! গবেষকদের দাবি

তিনটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ‘ককটেল’: চিকিৎসায় অব্যর্থ!

রেমডেসিভির: করোনায় আশা জাগাচ্ছে!

জাতীয় বিভাগের আরো খবর





সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি:
আবদুল্লাহ আল হারুন
প্রধান সম্পাদক:
আসিফ হাসান (নূর নবী)

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো. জিয়াউল হক
বিশেষ সংবাদদাতা:
র‌বিউল ইসলাম সো‌হেল

আমাদের মানচিত্র

ঠিকানা: দেওয়ান কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৬০/ই/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
কক্ষ নং ১৪/সি, নোয়াখালি টাওয়ার (১৪ তলা), ৫৫-বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০১৯১৪-৭৩৫৮৫৮, ০১৯১৪-৮৭৫৬৪০
ইমেইল: editor@amadermanchitra.com, amadermanchitrabd@gmail.com

Location Map
Copyright © 2012-2021
All rights reserved

design & developed by
corporate work