ঢাকা, বাংলাদেশ  |  মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১



  বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ১৮-০৮-২০২১  


করোনা নিয়ে ভ্যাকসিন ট্রাকারের আশাবাদ ও ডেঙ্গি মহামারীর শঙ্কা


  ইমা



ইমা: গত বছরের মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এদেশে করোনার আক্রমণ ও মৃত্যু। সেই জের এখনও চলছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু আর সংক্রমণের হার। স্বজন হারানোর বেদনায় দেশ আজ শোকে মূহ্যমান। এ অবস্থায় নতুন করে মূর্তিমান আতঙ্ক নিয়ে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গির আক্রমণ। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি এখনও মহামারী আকারে দেখা না দিলেও সংক্রমণের উর্ধগতিতে সে আশঙ্কা উড়িয়েও দেয়া যায় না। চলমান কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে আরেকটা ডেঙ্গি মহামারী হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। করোনা নিয়ে এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ট্রাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিশ্বে বর্তমানে যে হারে টিকা দেয়া হচ্ছে তার গতি যদি আরো বাড়ানো যায় তাহলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্ব একটি স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে। এরমধ্যে বাংলাদেশে টিকাদানের যে অগ্রগতি তা সন্তোষজনক না হলেও সরকার নিশ্চিত করেছে সকলেই যথাসময়ে টিকা পাবে।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ২৬ মার্চ গণছুটি ঘোষণা করে সরকার। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় মিল-কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ধাপে ধাপে ছুটি বাড়ানো হয়। দীর্ঘ ছুটির কবলে পড়ে অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। বিপন্ন হয়ে পড়ে দিনমজুর ও দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের ৩১ মার্চ ছুটি আংশিক প্রত্যাহার করে সরকার। পরে আরোপিত বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হয়।

গত বছরের আগস্টের পর থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। চলতি বছরের জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারিতে শনাক্তের হার তিন শতাংশের নিচে নামে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার করোনাভাইরাসের ধরন ছড়াতে শুরু করে। গত মার্চের প্রথম থেকেই সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করে। যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি ভারতীয় ডেলটা ধরনও সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবারও ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। ৫ আগস্ট থেকে তা আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়। গত ১১ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করে সবকিছু খুলে দেওয়া হয়।

করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার এই চিত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি টিকাকরণ, অপরটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহার করা। দেশে দ্রততম সময়ে টিকাদান সম্ভব হচ্ছে না। যে পরিমাণ টিকা আসছে তা দিয়ে সব মানুষকে দিতে দেড় থেকে দুই বছর লাগবে। এর আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহারের ওপরই অধিকরত গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু কৌশল নির্ধারণ করে দিয়েছে। অনেক দেশ সেই কৌশল যথাযথভাবে প্রয়োগ করে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। আর যেসব দেশ ওই কৌশল প্রয়োগ কিংবা যথাযথ ব্যবহার করেনি, সেসব দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত বছর মার্চে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই এ অবস্থা চলে আসছে। লকডাউন ঘোষণা না করে গত বছর মার্চে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো। মানুষ ঈদের ছুটির মনে করে গ্রামে ফিরে গেলেন। ঈদের সময়ও একইভাবে হাজারো মানুষ গ্রামে আসা-যাওয়া করে। এরপর গত বছরের জুন-জুলাই মাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, লকডাউন কিংবা বিধিনিষেধ নিয়ে দেশে সাপলুডু খেলা চলছে। যে প্রক্রিয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং তা তুলে দেওয়া হয়েছে তার কোনোটিই বিজ্ঞানসম্মত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইনলাইন অনুযায়ী, শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলে লকডাউন তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা এই হার নির্ধারণ করেছেন ১০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে শনাক্তের হার ২৫ শতাংশের ঘরে। এটি ৩০ শতাংশেও উঠেছিল। এর মধ্যেই আবারও বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে দেওয়া হলো। ৭ এর ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যু আরও বাড়বে। কারণ ডেলটা ধরনটি অধিক সংক্রমণপ্রবণ। সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বিপদ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গণমাধ্যমকে বলেছেন, জীবন-জীবিকার সমন্বয় করতে গিয়ে বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার বিকল্প ছিল না। কারণ দীর্ঘদিন কঠোর বিধিনিষেধ চালু থাকলে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট বাড়ে। কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেলে জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি আরো বলেন, প্রায় দুই কোটি মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ৫০ লাখের মতো মানুষের দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে দেশে আরও ১৫ কোটি ডোজের মতো টিকা চলে আসবে। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় চলে আসবে। সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, পর্যাপ্ত টিকা দেওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সবাই মাস্ক ব্যবহার করুন।

 

ডেঙ্গি পরিস্থিতি মহামারীর দিকেই যাচ্ছে

কীটতত্ত¡বিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ বলেছেন, ডেঙ্গি পরিস্থিতিকে এখনো মহামারী বলা যাচ্ছে না। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি মহামারী হওয়ার পর্যায়ে আছে। করোনা মহামারীর কারণে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য না আসায় সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। গত ১১ আগস্ট বুধবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ঢাকায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি এবং ডেঙ্গি মহামারী প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সিজিএসের চেয়ারম্যান ও কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী এবং মেডিকেল কীটতত্ত¡বিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিএম সাইফুর রহমান।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গির বর্তমান পরিস্থিতি মহামারীর দিকেই যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী ডেঙ্গি মহামারীর শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, চলমান কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে আরেকটা ডেঙ্গি মহামারী হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। লার্ভা নিধন না করে পূর্ণাঙ্গ এডিস মশা নিধনের প্রতি জোর দিতে বলেছেন তিনি।

তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ ডেঙ্গির সংক্রমণ বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য জরিপ করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ডেঙ্গি সংক্রমণ এক ধরনের ঢেউয়ের মতো। প্রতি বছরই যে একই রকম হবে তা নয়। ২০০০ সালে শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ বছর পর্যন্ত আমরা বিভিন্নভাবে এর সংক্রমণ দেখেছি। কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি। তবে এই বছর করোনা মহামারির সময়ে আগে থেকেই এই বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া উচিৎ ছিল। বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে জরিপ করা উচিৎ ছিল। কেননা, এই বছর অনেক আগে থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে এবং তাপমাত্রাও বেশি ছিল, যা কি না এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কিছুটা জরিপ করা হলেও সিটি করপোরেশনগুলো থেকে কোনো জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।    

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী আরো বলেন, মশা বেশি থাকে বাড়ির নিচতলা, গ্যারেজ ইত্যাদির মতো পেরিডমেসটিক এলাকায়। সেসব এলাকার দিকে বেশি নজর দিতে হবে। সরকার শুধু নির্মাণাধীন ভবনগুলোকে জরিমানা করে। কিন্তু জরিমানা করার পর লোকবল দিয়ে ভবনগুলোকে পরিষ্কার করতে হবে। সরকারি ভবনগুলোতেও অভিযান চালাতে হবে। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মশা নিধনের প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একটি পূর্ণাঙ্গ এডিস মশা করোনা রোগীকে কামড়ানোর পর যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায় তাহলে সেই সুস্থ ব্যক্তিটি করোনা আক্রান্ত হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা পতঙ্গবাহিত হয়- এমন কোনো ইতিহাস নেই। ড. জিএম সাইফুর রহমান বলেন, প্রজনন সময়ের আগেই এডিস মশার বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশেষত ঢাকা শহরে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বছরের শুরু থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা জরুরি। শুধুমাত্র ড্রেনে, ঝোপঝাড়ে কীটনাশক স্প্রে করলে হবে না। বাসা-বাড়ির ভেতরে, আনাচে-কানাচে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

সবশেষে ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী ডেঙ্গি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রতি জোর দিতে বলেন। তিনি বলেন, যেহেতু শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে সবচেয়ে বেশি, তাই শিশুদের ওপর বেশি যত্ন নিতে হবে। শিশুদের মশারি ছাড়া ঘুমাতে দেওয়া যাবে না। শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরিধান করাতে হবে। জ্বর হলে অবিলম্বে ডেঙ্গি এবং করোনা দুটোই পরীক্ষা করাতে হবে। সপ্তাহে একদিন শনিবার ঘরের আশেপাশে, ঘরের ভেতরে পরিষ্কার করতে হবে। সিটি করপোরেশনকেও একই উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্বাভাবিক হবে বিশ্ব

বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টিকা অভিযান চলছে। বিশ্বে ইতোমধ্যেই ৪৪৩ কোটি টিকা দেওয়া শেষ হয়েছে। বলা হচ্ছে, টিকা আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে। আর মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশ টিকা দিলে তৈরি হবে হার্ড ইমিউনিটি। তখন জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে দেশগুলো। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ট্র্যাকারগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, এখন প্রতিদিন যে গতিতে বিশ্বে টিকা দেওয়া হচ্ছে তাতে মোট জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ টিকা দিতে আরও ৫ মাস সময় লাগবে। তবে উন্নত বিশ্বের এই টিকা দানের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না অনুন্নত ও উন্নয়শীল দেশগুলো। আশার বিষয় হলো বিশ্বে ক্রমাগতই টিকা উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন নতুন কোম্পানির নতুন ভ্যাকসিন বাজারে আসছে।

বøুমবার্গ ভ্যাকসিন ট্র্যাকারের তথ্যানুসারে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী টিকা দেওয়ার হার প্রতিদিন গড়ে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৫০৩ ডোজ। সংখ্যার হিসাবে এখন প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি এক কোটি ৭১ লাখের বেশি ডোজ টিকা দিচ্ছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারত প্রতিদিন ৫৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ডোজ টিকা দিচ্ছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রতিদিন ২২ লাখ ৬৯ হাজার টিকা দিচ্ছে জাপান। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ব্রাজিল ১৪ লাখ ২৬ হাজার টিকা দিচ্ছে ব্রাজিল। পঞ্চম অবস্থানে থাকা পাকিস্তান প্রতিদিন ৯ লাখ ৫৪ হাজার ডোজ টিকা প্রয়োগ করছে। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়া প্রতিদিন ৭ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা প্রয়োগ করছে। ৭ম অবস্থানে থাকা  মেক্সিকো প্রতিদিন ৭ লাখ ৩৯ হাজার ডোজ টিকা দিচ্ছে। ৮ম অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ৭ লাখ ১২ হাজার টিকা প্রয়োগ করছে। অবশ্য ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮ শতাংশের বেশি মানুষকে অন্তত এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নবম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া প্রতিদিন ৬ লাখ ৫০ হাজার জনগণকে টিকা দিচ্ছে। দশম অবস্থানে থাকা রাশিয়া প্রতিদিন টিকা দিচ্ছে ৫ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি। প্রায় সমসংখ্যক ৫ লাখ ১৭ হাজারের টিকা প্রতিদিন দিচ্ছে ফ্রান্স। অবশ্য ফ্রান্স ইতিমধ্যেই ৬৮ শতাংশ জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে ফেলেছে। প্রতিদিন ৪ লাখের বেশি টিকা প্রয়োগ করছে কলম্বিয়া, ফিলিপাইন্স, সৌদি আরব, ইতালি ও থাইল্যান্ড। প্রতিদিন ৩ লাখের বেশি টিকা দিচ্ছে তুরস্ক, জার্মানি, স্পেন, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, শ্রীলঙ্কা, মরক্কো, উজবেকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া। জাপানের নিক্কি এশিয়ান রিভিউ ট্র্যাকারের ভ্যাকসিন ম্যাপ অনুসারে, প্রতিদিনে গড় টিকা দেওয়ার পরিমাপের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে চিলির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে আগামী এক মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে, আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২১ সালের অক্টোবরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল ও জার্মানির, পাঁচ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে ২০২২ সালের ফেব্রæয়ারিতে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা টিকা নিয়ে গোটা বিশ্বে এখন আপাতত দুটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলোতে করোনা টিকা এখন সহজলভ্য। এসব দেশের অধিকাংশ নাগরিক টিকার দুই ডোজ নিয়ে ফেলেছেন এবং নিজেদের আপাতত নিরাপদ ভাবতেও শুরু করেছেন। তাদের অনেকের ভাবনা এই করোনার সমস্যা আপাতত আর তাদের নেই। এটা এখন কেবল অন্যদের সমস্যা! অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো এখনো করোনা টিকা পাওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছে। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক গুণ বেশি অর্থ খরচ করতেও প্রস্তুত তারা। কিন্তু তাও করোনা টিকা পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা মিলছে না। কূটনৈতিক চেষ্টাও জোরদার করেছে এসব দেশ টিকা পাওয়ার আশায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসাস বলেছেন, অনেক দেশ যেখানে টিকা দেওয়া শুরুই করেনি, আর সেখানে কিছু দেশ তাদের জনসংখ্যার সিংহভাগকে দুই ডোজ টিকা দিয়ে ফেলেছে। এখন তারা বুস্টার হিসেবে তৃতীয় ডোজ দেওয়ার পথে। আমরা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে যে ভাগাভাগির কথা বলি, সেটা বিনামূল্যে নয়। অধিকাংশ দেশ টিকার দাম দিতে সক্ষম কিন্তু তাদের কাছে টিকা নেই। আমরা বিশ্বাস করি দ্রæত টিকা উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা বিশ্বের রয়েছে। করোনা টিকা উৎপাদন এবং বিলিবণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকা উৎপাদনের অধিকাংশ মালিকানা যাদের রয়েছে, তারা উৎপাদন বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তাহলে তা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। সবাই জানে সামর্থ্যটা কাদের আছে। এটা সেসব দেশে আছে যাদের সামর্থ্য আছে, যাদের উৎপাদন সক্ষমতা আছে, যাদের অর্থনৈতিক শক্তি আছে। এটা দ্বিস্তরের ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান বলেছেন, উচ্চ আয়ের যে দেশগুলো তাদের জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশকে টিকা দিচ্ছে, তারা কভিড-১৯ মহামারীকে নিজেদের সমস্যা বলে মনে করছে না। এটা বিপজ্জনক।

 

বাংলাদেশের অবস্থান

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, বাংলাদেশে জনগোষ্ঠীর ৮০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৫৬ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই ১ কোটি ৩১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৪৫ লাখ ১৯ হাজারের বেশি মানুষকে। তবে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ট্র্যাকারগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো নিচের দিকে। উপমহাদেশের ভারত, পাকিস্তান ও  শ্রীলঙ্কা তালিকার উপরের দিকে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের অবস্থান উল্লেখযোগ্য নয়। প্রতিদিনের টিকা দেওয়ার গড়ে বাংলাদেশ ২ লাখের বেশি টিকা দিলেও প্রতি একশ জনের টিকা দেওয়ার হার ও মোট জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার হারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিচে রয়েছে শুধু আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো।

 

করোনাভাইরাস: ‘ডেল্টা’ ধরনের সামনে যে মাস্ক অকেজো

বাজারে যেসব কাপড়ের মাস্ক পাওয়া যায় সেগুলোর কোনোটাই সেভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না। করোনাভাইরাসের প্রকোপ যখনই কিছুটা কমে আসছে মনে হচ্ছিল তখনই আঘাত হানে নতুন ধরন ‘ডেল্টা’। পরিস্থিতি এতই ভয়ানক হল যে সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার দুটোই আগের রেকর্ড ভাঙল। কারণ নতুন এই ধরনের সংক্রমণ ও প্রাণঘাতি ক্ষমতা পুরানো ধরনগুলোর তুলনায় কয়েকগুন বেশি। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ল। আর এর মধ্যে সবচাইতে জরুরি মাস্ক পরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটা সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি’র পরিচালক, ‘এপিডেমিওলজিস্ট’, ডা. মাইকেল অস্টারহোম সিএনএন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বহুল ব্যবহৃত মাস্কগুলোর মধ্যে অধিকাংশই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নয়। সময় এসেছে সব ধরনের কাপড়ের মাস্ককে বাতিল করার। ব্যক্তিগতভাবে শুধু নাক মুখ ঢেকে রাখার ধারণাটির সঙ্গে আমি একমত নই।‘ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এই ধারণার মানে হল কিছু একটা দিয়ে নাক আর মুখ ঢেখে রাখলেই কাজ শেষ।     প্রকৃতপক্ষে কাপড়ের মাস্ক শুধু করোনাভাইরাস নয়, কোনো জীবাণুকেই আটকাতে পারে না।’

কাপড়ে মাস্কের অকার্যকারিতা তুলে ধরতে অস্টারহোম উদাহরণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলতে থাকা দাবানলের। তিনি বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তেই মানুষ হয় শ্বাস নিচ্ছে অথবা ছাড়ছে। ওই দাবানল সামাল দিতে যারা কাজ করছেন তাদের প্রত্যেকেই মুখ কাপড় বেঁধে রাখছেন। তাদেরকে যদি প্রশ্ন করেন তো জানতে পারবেন তাদের প্রত্যেকেই ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছেন নাক, মুখ বেঁধে রাখার পরও।` তিনি আরও বলেন, ‘ভালো মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে এমন কার্যকর মাস্ক পরার পরামর্শ সাধারণ মানুষকে দিতে হবে, তাতেই একমাত্র এই ভাইরাসের সংক্রমণ দমানো সম্ভব সত্যিকার অর্থে।` ‘যেমন ‘এন-৯৫ রেস্পিরেটর, ব্যবহার। এতে যে মানুষগুলো এখনও টিকা নিতে পারেননি কিংবা এখন পর্যন্ত একবারও আক্রান্ত হননি তাদের অনেক উপকার হবে। টিকা নেওয়ার পর আবারও সংক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।’

মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জামের উন্নয়নের পক্ষে অস্টারহোম একাই কথা বলছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’য়ের সাবেক কমিশনার স্কট গোটলিব বলেন, ‘ডেল্টা ধরনের মতো ব্যপক সংক্রমণক্ষম ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে হলে ভালোমানের মাস্ক ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল ‘সিবিএস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, কেউ যদি সচেতনভাবে মাস্ক পরেন, তবে সেই মাস্কের মান সম্পর্কেও তার সচেতন হওয়া উচিত। ভালোমানের মাস্ক যদি কারও হাতের নাগালে থাকে তবে তা অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।’

অস্টারহোম বলেন, ‘মাস্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর ইতি টানতে হলে সবাইকে টিকা দেওয়াটাই একমাত্র উপায়। তাই টিকা নেওয়াকে কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করবেন না।’

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ও সমকাল অনলাইন

 


 নিউজটি পড়া হয়েছে ১৪১ বার  






 

জাতীয়

পরীমণিদের ‘পরী’ বানায় কারা?

১৫ আগস্ট: ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মানবীয় উদ্যোগ

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা: ১

পুলিস ও লায়ন্স ক্লাব-এর যৌথ উদ্যোগে ডাবলমুরিং-এ বিনামূল্যে ইফতার ও সেহেরি বিতরণ

অ্যান্টিবডিকে পাত্তা দিচ্ছে না করোনাভাইরাস!

চালু হলো পশু ক্রয়-বিক্রয়বিষয়ক মোবাইল অ্যাপ 'পশুর হাট'

বিবর্তিত হতে হতে করোনা আরও ভয়ঙ্কর‍! গবেষকদের দাবি

তিনটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের ‘ককটেল’: চিকিৎসায় অব্যর্থ!

রেমডেসিভির: করোনায় আশা জাগাচ্ছে!

জাতীয় বিভাগের আরো খবর





সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি:
আবদুল্লাহ আল হারুন
প্রধান সম্পাদক:
আসিফ হাসান (নূর নবী)

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো. জিয়াউল হক
বিশেষ সংবাদদাতা:
র‌বিউল ইসলাম সো‌হেল

আমাদের মানচিত্র

ঠিকানা: দেওয়ান কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৬০/ই/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
কক্ষ নং ১৪/সি, নোয়াখালি টাওয়ার (১৪ তলা), ৫৫-বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০১৯১৪-৭৩৫৮৫৮, ০১৯১৪-৮৭৫৬৪০
ইমেইল: editor@amadermanchitra.com, amadermanchitrabd@gmail.com

Location Map
Copyright © 2012-2021
All rights reserved

design & developed by
corporate work