ঢাকা, বাংলাদেশ  |  সোমবার, ২৭ জুন ২০২২



  বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ০১-০৬-২০২২  


বড় অসময়ে চলে গেলেন কেকে, মৃত্যু নিয়ে কিছু প্রশ্ন!


  রবিউল ইসলাম সোহেল




রবিউল ইসলাম সোহেল: বড় অসময়ে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে চলে গেলেন বলিউডের তারকা গায়ক কৃষ্ণকুমার কুনাথ, যাকে সকলে চেনে কেকে নামে। অল্প বয়সে এভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া তাঁর ভক্তকুলের মেনে নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। কলকাতা পুলিশের কাছে এ নিয়ে মামলাও দায়ের হয়েছে।

গত ৩১ মে মঙ্গলবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে প্রায় ৭ হাজার শ্রোতার সামনে গান গেয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষ হবার পরেই হোটেলে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্ত্রী জ্যোতিকার সাথে কেকে
একটা যুগের ছেলে-মেয়েদের প্রেম শুরু এবং প্রেম ভাঙা এই দুই মুহূর্তেরই সাক্ষী থাকত কেকে-র গান। যারা তাঁর গান শুনে কিশোর থেকে পরিণত হয়েছেন, সেই ভক্তকুলের জন্য তাঁর চলে যাওয়া আরও কষ্টের। ‘হম, রহে ইয়া না রহে কাল... কাল, ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পল’, কেকে-র এই গান কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। এ ছাড়াও তাঁর গাওয়া, ‘খুদা জানে’, ‘অলবিদা’, ‘ও মেরি জান’, ‘কোই কহে কহতা রহে’, ‘সচ কহে রহা হ্যায় দিওয়ানা’, ‘তু হি মেরা শব হ্যায়’, ‘দিল ইবাদত’ গানগুলি দেশবাসীর মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এই গানগুলি ভোলার মতো নয়। কেকে-র মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই কলকাতার নিউ মার্কেট থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কেকে-র মৃত্যু অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বহু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কলকাতায় গেছিলেন দুটি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে! গুরুদাস কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল মঞ্চে পারফর্ম করেন কেকে। এদিন সন্ধ্যায় গায়ক নজরুল মঞ্চে প্রবেশ করেন সন্ধ্যা ৬.৪৫ নাগাদ। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে, এমনকি লাঠিচার্জ করা হয়, ফায়ার স্টিংগুইশার দিয়ে গ্যাস স্প্রে করা হয় বলেও দর্শকদের একাংশের অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে নজরুল মঞ্চের অডিটোরিয়ামের সব গেট খুলে দেওয়া হলেও উপস্থিত দর্শকদের একাংশের অভিযোগ হলের ভিতরের এসি সঠিকভাবে কাজ করছিল না এবং সেই অস্বস্তিকর পরিবেশেই গায়ক অসুস্থবোধ করছিলেন বলে তাদের ধারণা।


মঞ্চে যে কেকে অস্বস্তিবোধ করছিলেন, তা স্পষ্ট তার শেষ স্টেজ শোয়ের ভিডিওতেও। কখনও তাকে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে দেখা যায়, কখনও আবার ইশারায় সহযোগীদের স্পটলাইট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি, এমনকি পারফরম্যান্সের মাঝে ব্যাকস্টেজে গিয়ে কিছুক্ষণের ব্রেকও নেন তিনি। তবে তার অসুস্থতা সম্পর্কে কোনও ধারণাই করতে পারেনি সহযোগীরা। রাত নয়টা নাগাদ মঞ্চ ছেঙে বেরিয়ে হোটেলে পৌঁছান গায়ক। সেখানেই হোটেলকর্মীদের অসুস্থতার কথা জানান। হোটেল সূত্রে খবর, রুমে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিল্পী। দ্রæত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ইমার্জেন্সি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে হাসপাতাল সূ্ত্ের জানা গেছে, ঠোঁটে চোট পাওয়া গেছে প্রয়াত গায়কের। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, বমি করেছিলেন গায়ক। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হওয়ায় ময়নাতদন্ত হবে কেকের মরদেহের। তবে মনে করা হচ্ছে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।


কেকে হয়ে ওঠার আগে তিনি ছিলেন কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। ১৯৬৮ সালের ২৩শে আগস্ট দিল্লির এক মালায়ালি পরিবারে জন্ম এই সংগীতশিল্পীর। তবে বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। বাবা সি এস নায়ার এবং মা কুনাথ কনকাবলী। ছোট থেকেই সঙ্গীতের আবহে বড় হয়ে ওঠা কেকে-র। মা-বাবা দু’জনেই খুব ভাল গান গাইতেন। মামাবাড়ির দাদু ছিলেন সঙ্গীতের প্রশিক্ষক। ছোট থেকে মায়ের গান রেওয়াজ খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেন কেকে। কখনও কখনও মায়ের গান রেকর্ড করেও রাখতেন। ছোট থেকে গানের গলা ভালো হলেও কেকে কখনও কোথাও গান শেখেননি। বাবা তাঁকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পাঠালেও দু’দিনেই প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া বন্ধ করেন। বলতেন, কিশোর কুমার কখনও গান শিখে গায়ক হননি। তাই তিনিও ভালো গায়ক হলে না শিখেই হবেন।


দিল্লির মাউন্ট সেন্ট মেরি স্কুলের গণ্ডি টপকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরি মাল কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন কেকে। স্নাতক পাশ করার পর, বিপণন সহযোগী হিসাবে প্রায় আট মাস কাজ করেছিলেন তিনি। এর পরই চাকরি ছেঙে মুম্বইয়ে চলে যান। ১৯৯১ সালে দীর্ঘ দিনের প্রেমিকা জ্যোতিকে বিয়ে করেন। তাঁদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে। ছেলে নকুলকৃষ্ণ কুনাথ এবং মেয়ে তামারা কুনাথ। বলিউডে পা দেওয়ার আগেই কেকে ১১টি ভাষায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিজ্ঞাপনী গান গেয়ে ফেলেছিলেন। ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সমর্থনের জন্য তিনি ‘জোশ অব ইন্ডিয়া’ বলে একটি গানও গেয়েছিলেন। এই গানের ভিডিয়োতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরাও ছিলেন। কেকে-র জীবনে সিনেমায় গান গাওয়ার প্রথম সুযোগ করে দেন এ আর রহমান। ১৯৯৬ সালে তামিল ছবি ‘কদাল দেশম’-এর ‘কলেজ স্টাইল’ গানের মাধ্যমে তাঁর অভিষেক হয়।


এর পর ১৯৯৯ সালে ‘হম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমার বিখ্যাত গান ‘তড়প তড়প কে ইস দিল সে...’ গানের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন কেকে। শোনা যায়, কেকে তিন-চার বার এই গান গাওয়ার পর সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবার সবুজ সঙ্কেত দিলেও মন ভরেনি কেকে-র। ইসমাইলকে তিনি জানান এই গানের জন্য যে দুঃখ-ভাবের প্রয়োজন, তা তিনি ফুটিয়ে তুলতে পারছেন না। এক দিন ভোর তিনটের সময় হঠাৎই ফোন করে জানান তিনি তৈরি। ভোর ৪টের সময় রেকর্ড হয় সেই গান। বাকিটা ইতিহাস। ওই একই বছরে মুক্তি পায় তাঁর বিখ্যাত অ্যালবাম ‘পল’। যার গান ‘হম, রহে ইয়া না রহে কাল..’ রাতারাতি লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পরে। এর পর আর ফিরে তাকাননি কেকে। কোঁকড়ানো চুলওয়ালা লাজুক গোছের কৃষ্ণকুমার হয়ে ওঠেন কেকে। বহুমুখী প্রতিভার জন্যও বিখ্যাত হন কেকে। তাঁর উঁচু মাত্রায় গান গাওয়ার দক্ষতা বলিউডে বৈপ্লবিক পরিবর্তনও আনে।


হিন্দি এবং তামিল ছাড়াও তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, মরাঠি, বাংলা, অহমীয়া এবং গুজরাতি ভাষাতেও গান গেয়েছেন কেকে। ২০০৯ সালে, ‘খুদা জানে’ গানটির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা নেপথ্য গায়কের পুরস্কার জেতেন। গানের রিয়্য়ালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’, তিনি জুরি সদস্য হিসেবে আমন্ত্রিত হন। এ ছাড়াও গানের বহু রিয়ালিটি শোয়ে জুরি সদস্য এবং অতিথি ছিলেন তিনি। জীবদ্দশায় হিন্দিতে ৫০০টিরও বেশি এবং অন্যান্য ভাষায় ২০০টিরও গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কেকে।


 নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩৩ বার  






 

জাতীয়

বিড‌ব্লিউএ‌বি-এর সা‌থে সিভিক রিয়েল এস্টেটের হাউ‌জিং প্রক‌ল্পের চু‌ক্তি স্বাক্ষ‌রিত

ই-কমার্স: গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া নিয়ে জটিলতা

ক্যাশ সার্ভার স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা, বিপাকে পড়বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারিরা

ব্যাংকার্স সিটি প্রকল্পের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ই-কমার্স নিয়ে প্রতারণা!

করোনা নিয়ে ভ্যাকসিন ট্রাকারের আশাবাদ ও ডেঙ্গি মহামারীর শঙ্কা

পরীমণিদের ‘পরী’ বানায় কারা?

১৫ আগস্ট: ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মানবীয় উদ্যোগ

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা: ১

জাতীয় বিভাগের আরো খবর





সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি:
আবদুল্লাহ আল হারুন
প্রধান সম্পাদক:
আসিফ হাসান (নূর নবী)

সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো. জিয়াউল হক
বিশেষ সংবাদদাতা:
র‌বিউল ইসলাম সো‌হেল

আমাদের মানচিত্র

ঠিকানা: দেওয়ান কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ৬০/ই/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
কক্ষ নং ১৪/সি, নোয়াখালি টাওয়ার (১৪ তলা), ৫৫-বি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০১৯১৪-৭৩৫৮৫৮, ০১৯১৪-৮৭৫৬৪০
ইমেইল: editor@amadermanchitra.com, amadermanchitrabd@gmail.com

Location Map
Copyright © 2012-2022
All rights reserved

design & developed by
corporate work